ঢাকা, শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭

কাঞ্চনজঙ্ঘা মেলেছে মোহিনী রূপ

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ১৬ নভেম্বর ২০২০  

নীল আকাশে ভেসে উঠেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

নীল আকাশে ভেসে উঠেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

‘কি শান্তির কোলে নীরবে ঘুমাও রাশি, তুষার অম্বরে ঢাকি মোহন মুরতিখানি’ পৃথিবীর অন্যতম পর্বত চূড়া কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য নিয়ে চরণগুলো লিখেছেন বেগম রোকেয়া। পঞ্চগড় থেকে এবার আগেভাগেই দেখা মিলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ হিমালয়ের অন্যতম চূড়া কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য। হেমন্তের হালকা শীতে সূর্যের আলোতে এ চূড়ার মোহিনী রূপ ছড়াচ্ছে প্রতিদিন।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এবার করোনায় প্রকৃতি হয়ে উঠেছে সজিব। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। শ্বেত-শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা মাথা উঁচিয়ে নয়ানাভিরাম সৌন্দর্য ছড়িয়ে যেন প্রকৃতিপ্রেমিদের ডাকছে। এবার ২৯ অক্টোবর থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য।

বিদেশে গিয়ে যাদের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ মেলে না, তাদের জন্য আদর্শ জায়গা পঞ্চগড়। কেবল মেঘমুক্ত ও কুয়াশামুক্ত গাঢ় নীল আকাশ থাকলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এ পর্বতমালা। খালি চোখেই নয়নভরে উপভোগ করা যায় এর সৌন্দর্য। এ জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমিরা ভিড় করছে হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে।

মাউন্ট এভারেস্ট ও কে-২ এর পরেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। চূড়াটির কিছু অংশ ভারতের সিকিম ও কিছু অংশ নেপালে। মনোমুগ্ধকর এ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সামর্থ্যবানরা যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা শহরের টাইগার হিলে। টাইগার হিলই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা।

আবার কেউ কেউ যান সান্দাকপু বা ফালুট। কেউ সরাসরি নেপালে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। কিন্তু ঘরোয়া পরিবেশে নিজের মতো করে দেখার সুযোগ কেবল পঞ্চগড় থেকেই মিলছে। পঞ্চগড়ের প্রায় সব এলাকার ফাঁকা জায়গা থেকেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে সবচেয়ে ভালো দেখা যায় তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পাশ দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে।

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেঘমুক্ত ও কুয়াশামুক্ত আবহাওয়ায় আকাশের বুকে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সূর্যের আলোর সঙ্গে সঙ্গে কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপি আবার কখনো লাল রঙ নিয়ে হাজির হয় বরফে আচ্ছাদিত এ চূড়া। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করার উপযুক্ত সময় হলো ভোর ও বিকেল।

পর্বত চূড়াটির নিচ দিয়েই কালো রঙে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকা দেখা যায়। সন্ধ্যায় দার্জিলিংয়ে জ্বলে ওঠা বাতিগুলোও এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। এ দৃশ্য উপভোগ করতে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছে। এছাড়া পঞ্চগড়ের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রকৃতিপ্রেমিদের বাড়তি খোরাক জোগায়।

পঞ্চগড়ের ফটোগ্রাফার মারুফ হাসান আবির বলেন, ঘর থেকে বের হয়ে উত্তরে তাকালেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত সুন্দর দৃশ্য দেশের আর কোথাও থেকে উপভোগ করা যায় না। প্রতি বছর কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি তোলার জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। এখানে পর্যটকরা আসছেন ছবি তুলছেন, পাহাড়েরর সঙ্গে সেলফি নিচ্ছেন অন্যরকম একটা অনুভূতি।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হাসিবুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে আমাকে নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। কুয়াশা থাকায় দেখতে পারিনি। এবার সেই আশা পূরণ হয়েছে। সারাদিন তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।

অখিল চন্দ্র সরকার নামে আরেক পর্যটক বলেন, ভারতের দার্জিলিং গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার যে দৃশ্য দেখা যায়, এর চেয়ে তেঁতুলিয়া থেকে ভালো দেখা যায়। এখানকার প্রকৃতির সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘার পুরো অবয়ব এক সঙ্গে ধরা দেয়।

পঞ্চগড় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি তৌহিদুল বারী বাবু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছিল পাহাড়েও। দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছিল। তাই পর্বত চূড়ার চারপাশ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতো। এ কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা অল্প কয়েকদিন ছাড়া বেশিরভাগ সময় দেখা যেতো না। এবার করোনায় পরিবেশ দূষণ অনেকটা কমেছে, তাই আগেভাগেই কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। 

তেঁতুলিয়ার ইউএনও সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, এবার কাঞ্চনজঙ্ঘা কয়েক বছরের তুলনায় ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে। তাই পর্যটকের ভিড়ও বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারিভাবে আমাদের এখানে কয়েকটি ভবন রয়েছে। সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। তাই আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে হোম স্টে করার উদ্যোগ নিয়েছি।

পঞ্চগড়ের এসপি মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, পঞ্চগড় একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা। এখানে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। পর্যটকদের যেকোনো সমস্যায় সহযোগিতায় পাশে থাকবে পুলিশ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়