ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭

তিনটি হৃৎপিণ্ড নিয়ে বেঁচে আছে এই প্রাণী

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৪, ১১ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: কাটল ফিশ

ছবি: কাটল ফিশ

কাটল ফিশ একটি সামুদ্রিক প্রাণী। এরা প্রাণীজগতের অন্যতম বিস্ময়কর প্রাণী। চতুরতার জন্য এই প্রাণীরা বিশেষভাবে পরিচিত। এরা সেফলপোডা গোত্রের প্রাণী। এরা আসলে মাছ নয়। এদের বলে মোলাক্স বা শামুক জাতীয় প্রাণী। 

এরা অত্যন্ত নরম দেহের দৈত্যাকৃতির  প্রাণী। এদের আটটি হাত রয়েছে। এদের দাঁতের সামনে একটি শোষক আছে। তারা এই শোষকের সাহায্যে তাদের শিকারটিকে সুরক্ষিত রাখে। এই শোষকের আকার সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কাটল ফিশের সমস্ত শরীর ম্যান্টল দিয়ে আবৃত থাকে। ম্যান্টল হলো এক প্রকার বিশেষ থলি। সামনের দিকে মাথা ও টেন্টাকল নামক সরু এবং নরম অঙ্গ ম্যান্টল থেকে বাইরে প্রসারিত হয়। শরীরের গা ঘেঁষে থাকে দুইটি পাখনা। এদের দুইটি টেন্টাকল রয়েছে।   

কাটল ফিশের তিনটি আলাদা আলাদা হৃৎপিণ্ড থাকে। দুইটি হৃৎপিণ্ড কানকোর গোঁড়ায় থাকে। এই দুইটির কাজ হলো সমস্ত দূষিত রক্তকে পাম্প করে কানকোয় নিয়ে যাওয়া। 

কানকোয় পৌঁছে তাদের দূষিত রক্ত অক্সিজেন শোষণ করে। তারপর সেই রক্ত তৃতীয় হৃৎপিণ্ডে চলে যায়। তৃতীয় হৃৎপিণ্ডটি সেখান থেকে রক্ত প্রাণীটির সারা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত করে। 

এরা গভীর সমুদ্রের প্রাণী। তাই সহজে এদের দেখা যায় না। তবে মাঝে মাঝে জীবিত অবস্থায় অথবা মৃত্যুর পর তারা সাগরের জোয়ারের সঙ্গে ভেসে উপকূলে আসে। তবে ভাঁটার টানে আটকে যায় সাগর পারের বালুকা বেলায়। 

সেখানে তারা মরে পড়ে থাকে। তখন তাদের মৃতদেহ রোদে শুকিয়ে যায় অথবা বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে নেয়। অত্যন্ত নরম দেহের এই প্রাণীটি কাঁকড়া ধরার এক বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছে। তবে কাঁকড়া যদি আকারে বড় হয়ে থাকে, তাহলে সেটি তাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে থাকে। 

কারণ তাদের শক্তিশালী চিমটা রয়েছে। এক্ষেত্রে তারা এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে থাকে। মুহুর্মুহু দেহের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঁকড়াকে সম্মোহিত করে ফেলে।  

কাটল ফিশ বেশ উজ্জ্বলতার সঙ্গে সঙ্গে ঝলমল করতে থাকে। সূর্যের আলোতে এদের ধাতব পদার্থের মতো দেখায়। পেছনের পেটের সঙ্গে মিলিয়ে এরা এদের রং বদল করে। কাটল ফিশের দৈর্ঘ্য ৮ সেন্টিমিটার থেকে ১.৮ মিটার পর্যন্ত হতে দেখা গিয়েছি। 

এরা শত্রুদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য এক অদ্ভুত উপায় ব্যবহার করে থাকে। তারা এক প্রকার কালো রঙের তরল পদার্থ নিঃসরণ করে। এটি ধোঁয়ার মতো কাজ করে। তারা তাদের ডিমও লুকিয়ে রাখে ওই কালো তরল পদার্থের মধ্যে। তাদের কাছে শরীরের আকার কোনো ব্যাপার নয়। তাদের বেশি কৌশলী হতে হয়। 

দৈত্যাকার কাটল ফিশগুলো মিলিত হয় বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে। স্ত্রী মাছের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় যৌনতার প্রতিযোগিতা এখানে চরমতম। একটি মাত্র স্ত্রী মাছ থাকে একটি দানবাকার পুরুষের দখলে। 

অন্য কোনো পুরুষ যদি সেই স্ত্রী মাছটিকে নিজের সঙ্গী বানাতে চায়, তাহলে সেই দুই পুরুষদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ভয়ংকর আক্রমণ। কখনো কখনো তারা দেহের রং পরিবর্তন করে অবিকল স্ত্রী মাছের রূপ ধারণ করে। 

বংশগতিতে বৈচিত্র্য আনতে স্ত্রী মাছেরা সাধারণত একাধিক পুরুষের সঙ্গে যৌনতায় দ্বিধা করে না। সাধারণত কাটল ফিশ বসন্তকাল ও গ্রীষ্মকালে ডিম পাড়ে। 

একেকটি কাটল ফিশ প্রায় ১০০ থেকে ৩০০টি ডিম পাড়ে। মানুষ এদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এদের হাড় তোঁতা ও ক্যানারি নামক পাখির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়