ঢাকা, সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৮

সুরা কাউছারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৬, ২৩ নভেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সুরা আল-কাউছার। কোরআনুল কারিমের সবচয়ে ছোট্ট সুরা। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে রেসালাতের তাৎপর্য ঘোষণার সেরা সুরা এটি। অফুরন্ত কল্যাণের এ সুরাটিকে ‘সুরা নাহার’ও বলা হয়।

সুরাটি ফজিলতপূর্ণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অফুরন্ত কল্যাণ দানের ঘোষণায় সুরাটি নাজিল হয়। সুরাটি নবিজীর তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় নাজিল হয়। সুরাটি নাজিল হওয়া মাত্রই তিনি হাসিমুখে মাথা উঠালেন। কী এমন অফুরন্ত কল্যাণ আছে সুরাটিতে যা নাজিল হওয়ায় তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন?

উচ্চারণসহ সুরা আল-কাউছারের অর্থ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
‘ইন্না আত্বাইনা কাল-কাউছার’
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আল-কাউছার (অফুরন্ত কল্যাণ) দান করেছি।

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
‘ফাছাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার’
অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।

إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
‘ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার’
‘নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই হবে নির্বংশ।

তিন আয়াত বিশিষ্ট সবচেয়ে ছোট্ট সুরাটি মক্কায় অবর্তীণ হয়েছে। একটি কোরআনুল কারিমের ১০৮তম সুরা। সুরাটি নবিজীকে অফুরন্ত কল্যাণ দানের ঘোষণা এসেছে।

সুরাটি নাজিলের কারণ
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাদের মাঝে বসা ছিলেন। তিনি কিছুক্ষণ তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। এরপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমরা আরজ করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! আপনার মুচকি হাসার কারণ কী? তখন তিনি বললেন-
এই মাত্র আমার প্রতি একটি সুরা নাজিল হয়েছে। তারপর তিনি বিসমিল্লাহ পড়ে সুরাটি তেলাওয়াত করলেন।
এরপর তিনি ইরশাদ করলেন- তোমরা কি জান কাউছার কী? তখন আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন-
‘কাউছার হলো জান্নাতের একটি নহর; এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে; যা আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেয়ামতের দিন হাউজে কাউছারের পাশেই আমার উম্মত অবস্থান করবে। হাউজে কাউছারের পাত্রের সংখ্যা হবে আসমানের তারকার সমান। কোনো কোনো বান্দাকে হাউজে কাউছার থেকে টেনে সরিয়ে দেওয়া হবে, তখন আমি আরজ করবো-
হে আল্লাহ! এ ব্যক্তি আমার উম্মাত। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হবে- হে রাসুল! আপনি অবগত নন যে, আপনার পরে এ ব্যক্তি দ্বীনে কী কী নতুন বিষয় (বেদআত) বের করেছে।’ (মুসলিম, তাফসিরে নুরুল কোরআন)

সুরাটি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে রেসালাতের অনেক বড় দলিল। ইসলামের প্রথম যুগে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অবিশ্বাসীদের দিকে কোরআনের ছোট্ট একটি সুরা কিংবা একটি আয়াত রচনা করে দেওয়া চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করলেন। তখন আরবের বড় বড় কবিরা তা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। তখন তারা একটি ছন্দ ঘোষণা করেছিল-
‘ইন্না আত্বাইনা কাল-কাউছার’
‘লাইসা হাজা কালামুল বাশার’
অর্থাৎ এ কোরআন কোনো মানুষের রচিত কিতাব নয়; এটি স্বয়ং আল্লাহর কিতাব।

সুরাটির আমল ও বৈশিষ্ট্য
১. যদি কেউ বৃহস্পতিবার রাত দিবাগত রাতে সুরা কাউছার ১ হাজার বার তেলাওয়াত করে এবং একহাজার বার দরূদ শরিফ পড়ে; তবে আশা করা যায়, স্বপ্নে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জেয়ারত পেয়ে ধন্য হবেন।’ (তাফসিরে নুরুল কোরআন)

২. যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে, সে সুরা কাউছার তেলাওয়াত করছে, তবে সে নেক আমল করা পছন্দ করবে এবং অধিকাংশ সময় সে নেক আমলেই রত থাকবে।’ (তাফসিরে নুরুল কোরআন)

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘কাউছার’ সেই অজস্র কল্যাণ যা আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করেছেন। কাউছার জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম। হাদিসে বলা হয়েছে যে, ‘এটা একটি নহর যা বেহেশতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করা হবে।

সুরাটির দ্বিতীয় আয়াতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজ ও কোরবানির মাধ্যমে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কথা বলা হয়েছে। হে রাসুল আপনি আপনার প্রভুর জন্য নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।

শেষ আয়াতে যারা নবিজীকে নির্বংশ বলে গালি দিতো তাদের প্রতি উত্তরে আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আপনার প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষণ করে তারাই নির্বংশ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা কাউছারের ঘোষণা ও অফুরন্ত নেয়ামত পাওয়া তাওফিক দান করুন। সুরাটি আমল ও বৈশিষ্ট্য মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়