ঢাকা, সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৮

পটুয়াখালী পৌরসভার উদ্যোগে খালে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৭, ২২ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী পৌরসভার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে অন্তত অর্ধশত খাল। যার অধিকাংশই এখন অস্তিত্ব নেই। যেগুলো টিকে আছে তাও দখল ও দূষণে ব্যবহারের অনুপযোগী। এমন পরিস্থিতিতে মরা খালগুলোকে পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী পৌরসভা।

এরই মধ্যে পৌর শহরের আরামবাগ এলাকায় বয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় ঝিলবুনিয়া খালের বড় একটি অংশে প্রাণ ফিরেছে। বিশেষ করে খালের ওপর বাঁধ দিয়ে তৈরি করা সড়কের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি ব্রিজ। খালের দুপাড়ে বসানো হয়েছে সিসি ব্লকও। ব্রিজের নামকরণ হয়েছে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত খান মোশাররফ হোসেনের নামে। দৃষ্টিনন্দন এ ব্রিজ ও খাল এখন নগরবাসীর কাছে এখন বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

পটুয়াখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরে বর্তমানে ৩৮টি খাল আছে। এর মধ্যে ঝিলবুনিয়া খালটি আনসার ক্যাম্পের সামনে দিয়ে পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট হয়ে আরামবাগের মধ্য দিয়ে মাদবর বাড়ি হয়ে বহাল গাছিয়া খালে গিয়ে মিলেছে। দীর্ঘদিন খালটি সংস্কার না করায় খালের মধ্যে ছোট ছোট বাঁধ দিয়ে এর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ নষ্ট করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আরামবাগ বাজারের কাছে এক কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ২৬৫ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার লম্বা এবং ২৪ ফিট প্রশস্ত একটি ক্যাবল ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

নির্ধারিত সময় কাজ শেষ হওয়ার পর খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি খালের ৭১০ মিটার এলাকা পুনর্খনন করে খালের দুপাড়ে সিসি ব্লক বসানো হয়। ফলে বিকেল হলেই পৌরবাসী একটু বিনোদনের খোঁজে এখন এ খালপাড়ে জড়ো হচ্ছেন।

পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু বলেন, ক্যাবল দিয়ে সংযুক্ত ব্রিজটিতে বসানো হয়েছে নানা রঙের বাতি। ফলে রাতের বেলায় বিভিন্ন আলোয় আলোকিত হয়। এ কারণে শহরবাসীর কাছে এটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিজকে কেন্দ্র করে খালটি আবারও প্রাণ ফিরে পাওয়ায় এ এলাকায় এ বছর জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি। পাশাপাশি খাল সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ গত অবস্থানেও ভারসাম্য বজায় থাকছে।

সেতু প্রসঙ্গে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পটুয়াখালী শহরকে একটি আধুনিক বাসযোগ্য উন্নত শহরের আদলে তৈরি করতে কাজ চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল সার্ভে শেষ করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে। পর্যায়ক্রমে শহরের সব খাল সচল করা হবে। খালকে কোনো অবস্থাতেই সরু ড্রেনে পরিণত করা হবে না। এ কারণে দখল হওয়া খাল উদ্ধারেও পদক্ষেপ নেওয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মরা খালের যে সব জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তা অপসারণ করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। খালগুলো এমন থাকবে যাতে এতে সহজেই ছোট নৌযান/বোট চলাচল করতে পারে এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নৌ পথেও চলাচল সম্ভব হয়।

মেয়র মহিউদ্দিন বলেন, প্রথম পর্যায়ে ব্রিজটি করার ফলে আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল তা বাস্তবায়ন এবং উদ্দেশ্য সফল হলো। পাশাপাশি শহরের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানাতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। তাই তো বীর মুক্তিযোদ্ধা পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা খান মোশাররফ হোসেনের এর নামকরণ করেছি। এ দেশের জন্য, এ শহরের জন্য এবং এ অঞ্চলের মানুষের জন্য তার অবদান আছে। এমন গুণী মানুষকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা নিজেরাও কাজ করে তৃপ্তি পাই।

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়