ঢাকা, সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৭ ১৪২৯

ডেঙ্গু: অফিসেও সতর্ক থাকুন

হেলথ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৩, ৭ নভেম্বর ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই এ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সচেতনতা বা সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন কর্মক্ষেত্রেও। যেখানে একটা দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। সে ক্ষেত্রে কাজের জায়গায় গ্রহণ করতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

এডিস মশা মশা দেয়ালে না বসে টেবিলে, সোফা, পর্দা ও ঝুলন্ত কাপড়ের নিচে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে। তাই এসব জায়গায় অ্যারোসল স্প্রে করতে হবে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নির্মূলে রাস্তায় ওষুধ স্প্রে করলেই হবে না। কারণ, এডিস মশা নালা, পুকুর, খাল, নদী বা আবর্জনার স্তুপে বংশবিস্তার করে না।

ডেঙ্গু ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এই ভাইরাস মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিরোধ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই প্রাথমিক হাতিয়ার। ডেঙ্গু মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে জানিয়েছেন চিকিৎসক আদনান আহমেদ রবিন।

পানি জমতে দেবেন না
ডেঙ্গু ঠেকানোর অন্যতম উপায় আপনার আশেপাশের জমানো পানি পরিষ্কার করা। ‘ভদ্র ’ হিসেবে পরিচিত এডিস মশা সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে। ময়লা পানিতে নয়, ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। আর তাই এই মশার জন্য আপাত পরিষ্কার অফিস বংশবিস্তারে আদর্শ স্থান। অফিসের বাথরুমে, ফুলের টবে, ফ্রিজের নিচে, এসির নিচে জমে থাকা পানিতে, বেজমেন্টের পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোথাও তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমা না থাকে।

দিবালোকে মশার কামড় ঠেকাতে
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু মশা সাধারণত দিনের আলোয় কামড়ায়। তাই অফিসে থাকাকালীন সময়ে পায়ে মোজা ব্যবহার করতে পারেন। ফুল হাতার জামা পরুন। মশা যেন না কামড়াতে পারে এজন্য মশাবিরোধী বিভিন্ন ক্রিম বা তেল শররের খোলা স্থানে ব্যবহার করুন। অফিসের দরজা-জানালায় নেট লাগাতে হবে। মশা তাড়াতে স্প্রে, লোশন, ক্রিম, কয়েল, ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

এডিসের ডিম ধ্বংস করুন
এডিস মশা খুব অল্প পানিতে ডিম পাড়ে যা পানি ছাড়াও প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। এই জন্যই লার্ভা ধ্বংসে টেমিফস ১ গ্রাম/১০ লিটার পানিতে খুব কার্যকরী, যার ব্যবহার পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। এডিস মশা যে কোনো ফেলে দেওয়া পাত্রের কিনারে ডিম পাড়ে যা পাত্রের গায়ে আটকে থাকে। যে কারণে পানি ফেলে দিলেও ডিম নষ্ট হয় না। তাই এটাকে ব্লিচিং পাউডার বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব।

সন্দেহজনক প্রজননস্থল ধ্বংস
অফিসেরে পাশে কোন নির্মাণাধীন ভবন থাকলে, এটার বেজমেন্ট, লিফটের গর্ত, ইট ভেজানোর চৌবাচ্চা, ড্রাম পরীক্ষা করুন। যদি এসব জায়গায় জমে থাকা পানিতে ছোট ছোট পোকা দেখতে পান তাহলে বুঝবেন সেটি এডিস মশার লার্ভা বা বাচ্চা। নির্মাণাধীন ভবনের মালিককে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করুন যেন সে তার বাড়িতে মশা জন্মানোর স্থান তৈরি না করেন। নির্মাণাধীন ভবন যদি আপনার হয় তাহলে সেখানে জমে থাকা পানিতে কীটনাশক বা কেরোসিন বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রাখুন। এছাড়া অফিসের আশেপাশে যদি মশা জন্মানোর মতো কোনো সরকারি বেসরকারি স্থাপনা থাকে তাহলে ওই অফিসকে জানান। বাড়ির আশেপাশে গাছের গর্ত বা কাটা বাঁশের গোঁড়া মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিন। কারণ গাছের কোটর বা বাঁশের গর্তে এডিস মশার জন্ম হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়