ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

যমুনা নদীগর্ভে বিলীন ২০ ঘরবাড়ি

প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২৩, ৩ জুলাই ২০২২  

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউপির মাজ্জান, ফকিরপাড়া ও বিনোটিয়া গ্রামের ৪টি পয়েন্টে তীর সংরক্ষণ বাঁধ ধসে ২০টি ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

সর্বস্ব হারানো এ সব মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে পাশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। বিলীন হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের মানুষ পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারেননি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এ ভাঙন এলাকায় বালু ভর্তি জিও বস্তা ফেললেও তা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।বিনোটিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম, আব্দুল করিম, বেল্লাল হোসেন, রেজাইল করিম জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ সংস্কার করা হয় না। ফলে বাঁধটি দুর্বল হয়ে এর বিভিন্ন স্থানে ধস শুরু হয়েছে। এরমধ্যে গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি শুরু হওয়ায় বিনোটিয়া গ্রামের ৫টি বাড়িঘর যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিনোটিয়া জামে মসজিদ

এ এলাকা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী তীরবর্তী মানুষদের আবেদনে সাড়া না দেয়ায় ঘরবাড়ি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসীর খাওয়া ও রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় ফকিরপাড়া গ্রামের ৩টি পাকা ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্তে বিলীন হয়ে গেছে।

মাজ্জাম গ্রামের আবু জাফর, আবুল কালাম আজাদ, বারিকুল শেখ, ফুলমালা, কমলা খাতুন, সাবানি খাতুন, হালিমা খাতুন, জয়ফল খাতুন, রমিছা খাতুন ও সারমিন খাতুন জানান, এ গ্রামের ১২-১৪টি বসতঘর চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ধান, চাল, খাট, আলমারিসহ মূল্যবান কিছুই ঘর থেকে বের করতে পারেনি। এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। এখন তারা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে এক বেলা আধ বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। 

তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন স্থানে কিছু বালুর বস্তা ফেলেছে। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে এ ভাঙন রোধ তো দূরের কথা ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছর নির্মিত মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধই এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

শাহজাদপুরের ইউএনও তারিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের মাঝে অতি তাড়াতাড়ি খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। আর বাঁধে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিদের রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় পলিথিন বা তাবুর ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ঐ এলাকায় বস্তা ফেলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন এলাকায় বালুর জিও বস্তা ফেলা অব্যাহত আছে। ওই এলাকা ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ওখানে এ বস্তা ফেলার কাজ অব্যাহত থাকবে।

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়