ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৯

তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না

তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না

দীপ্র অক্ষরেরা

অক্ষরেরা আসে-- অসংখ্য অনাহূত তীব্র অক্ষর আসে আমার ঘরে-- ঘরময় করে ওড়াউড়ি--

তবে কি হলুদ পাতার চিঠিতে অনুদ্ঘাটিত কোনো অবচেতনে নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলাম কোনো দিন-- যেভাবে মৌমাছি আসে, মধুচক্রে-- সেইভাবে নেচে নেচে, গান গেয়ে গেয়ে আসে একেকটি অতিথি-অক্ষর-- 

যখন পাশাপাশি আসে, কী অদ্ভুত শব্দের মূর্ছনা হয়ে যায় ওরা, আমি বিস্ময়ে শুনি-- আনমনে বলি, বসো-- 

শব্দগুলো বসে-- সারি সারি-- যেন নিপুণ সন্নিবেশ এক-- অদৃশ্য ইশারা মেনে নিজেরাই বসে গেছে যথাযথভাবে-- যেভাবে সাজানো থাকে পাপড়িগুলো, অনাঘ্রাত ফুলে--

কিছু আনকোরা, নতুন উচ্চরণ পাঠ করে যেতে যেতে ভাবি-- এই তীব্র আর দীপ্র অক্ষরেরা তবে কবিতার নিমন্ত্রণে এসেছিল বুঝি!

আমার কথাগুলো

জানি, তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না বজ্রবিদ্যুৎভরা মেঘেদের কানে-- একটি ফণাতোলা গোখরার কাছে কতটা প্রার্থিত ছিল মধু অথবা ফণিমনসার কাছে চেয়েছিলাম তরতাজা রক্তগোলাপ-- সবই অনুক্ত থেকে যাবে-- আমি তাই আমার কথাগুলো রেখে যাব পাখিদের ঠোঁটে--

নদীটারও ভাষা ছিল-- রোদ্দুর ছড়ানো দিনে উগরে দিয়েছিল তাই কথার বুদবুদ-- ধূলোর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে যেভাবে দৃশ্যগুলো তুলে রাখি চোখের ঝুড়িতে-- সেইভাবে সযত্নে গেঁথে রাখি এইসব গূঢ় পদাবলি--

মানুষ মূলত বধির, হৃতবাক-- তাদের অনুর্বর হৃদয়ে নিজেকে অপচয় করে কেন আমি রুয়ে দিতে যাব এইসব কথা আর শব্দের চারা-- আজ তাই, সুমিষ্ট সঙ্গীত শোনাতে গিয়ে বহুবার থেমে থেমে যাই--

তোমাদের কাছে নয়, চলে যাওয়ার আগে আমার সমস্ত কথা পাখিদের ঠোঁটে তুলে রেখে যাব--

সোনার কলমে লেখা কবিতাগুচ্ছ

সুর থেকে বেরিয়ে শরের ভেতরে এসে ঢুকে পড়েছি-- এই উজ্জ্বল অধিবিদ্যার দেশে আর কোনো নমস্য পুরুষ নেই-- কেবল এক অদৃশ্য ভায়োলিন বেজে চলে বৃষ্টি কবলিত গোধূলির শেষে-- আর জলরঙে ডুবে থাকা নৃত্যরত নগ্নিকারা বেরিয়ে পড়ে ঝিঁঝিঁদের পাড়ায়--

দুইটি জমজ নদী পার হয়ে তবে এই অধিবিদ্যার নগরে এসেছি-- এক পুরোনো কারখানার পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বলি, বাজুক এ বীণা, বিনা বেদনায়-- নীলচে ঘাসের ফুল থেকে তখন অচেনা ঝাঁজ বের হয়ে আসে--

এক অপরিচিত বৃক্ষের নিচে পৌঁছাতেই কতগুলো শুকনো পাতা ঝরে পড়ে চারিদিক-- আশ্চর্য, এত বৃষ্টির পরও এমন ঝরঝরে পাতা কোথা থেকে আসে--

অনিচ্ছুক হাতে একটি পাতা কুড়িয়ে নিয়ে দেখি-- ধবধবে পৃষ্ঠা জুড়ে সোনার কলমে লেখা কবিতা-- যার হস্তাক্ষর তাতে, পূর্বজন্ম থেকে সে আমার চেনা--

পুনরায়, বীণার সুর বেজে ওঠার আগে, একটি কবিতার শিরোনাম পড়তে পড়তে আমি ঘুমের গহ্বরে তলিয়ে যেতে থাকি--

বিষণ্ণ মুহূর্তের গল্প

কারা আসছে নিষিদ্ধ ভায়োলিন বাজিয়ে-- তাদের কাছে গিয়ে বলি, উজ্জ্বল হও, বের হয়ে এসো এই ঘোরগ্রস্থতা থেকে-- এতদিন তীরবিদ্ধ ছিলে, এখন পান করো এই সুর-- কথার নির্যাস--

কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে তোমরা শুনতে চাও মৃত মানুষের গান-- অথচ, মাথার ওপর যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দিয়ে সারাক্ষণ বিরক্ত করো তাদের-- কবে যে বুঝবে, মৃতরাও মানুষ!

তারচেয়ে, যদি পারো, সহজ হও আরও-- মুখ থেকে সরিয়ে নাও পোড়োবাড়ির নিরেট গাম্ভীর্য-- কেননা, প্রতিটি বিষণ্ণ মুহূর্তের গল্প একটি ঝরা ফুল হয়ে ভেসে যেতে চায় বেলাশেষের স্রোত--

সর্বশেষ
জনপ্রিয়