ঢাকা, রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৮

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এখন তিন ভাগে বিভক্ত বিএনপি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৭, ২৫ জুলাই ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়। খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের মতের অমিল এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপি এখন তিন ভাগে বিভক্ত। রয়েছে তারেকপন্থী এবং খালেদাপন্থী পক্ষ। তৃতীয় পক্ষটি খালেদা-তারেকবিহীন; তারা চায়- এই দুজনকে মাইনাস করে নতুন করে বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিএনপির হাইকমান্ড থেকে বঞ্চনার শিকার সিনিয়র নেতারা রয়েছে এই তৃতীয় পক্ষে। আরও রয়েছে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে বিনা কারণে শোকজ দিয়ে অপমান করা নেতারাও। এমনকি এক এগারোর সময় বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতারাও রয়েছে এই তৃতীয় পক্ষে।

বিএনপির সংস্কারপন্থী এক সিনিয়র নেতা জানান, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আবারও কোনো হোমওয়ার্ক ছাড়া উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলকে এবং নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে হেয় করার কোন অর্থ নেই।

তিনি আরও বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে যথাযথ আন্দোলন না করা, নির্বাচনে যাওয়া, প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, সংসদে যোগ দেওয়াসহ বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই ছিল একক তারেক রহমানের। কোনোটিতেই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়নি বিএনপি। লাভবান হয়েছে তার পছন্দের কিছু নেতা এবং সে নিজে।

এদিকে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভাজন রয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা এবং অসুস্থ খালেদা জিয়ার রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকাসহ নানা মেরুকরণে ক্রমাগতভাবে প্রান্তিক হতে থাকা দলটিতে বিরুদ্ধতা এখন চরমে পৌঁছেছে। তাই ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে টিকে থাকতে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দল থেকে ছেঁটে দিতে তৎপর এই তৃতীয় পক্ষ। ইতোমধ্যে তারা নিজেদের গুছিয়ে নিতে কাজও শুরু করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির গোপন একটি সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলের কর্মসূচীর বাইরের কার্যকলাপে অংশ নেওয়া বেশ কিছু নেতার মধ্যে অন্তত বারজন দলের হাইকমান্ডের নজরদারিতে রয়েছেন। অভিযোগ- একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দলের সঙ্গে আগের থেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকা এইসব নেতারা তাতে কর্ণপাত করেননি। তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি, কার্যকলাপ এবং দলীয় কর্মসূচীতে অনেক দিন ধরেই অংশ না নেওয়ার ফলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বে।

জানা যায়, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন- ১/১১- এর সময়ে যেসব নেতা দলের মূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে সংস্কার প্রস্তাব এনেছিলেন তাদের বড় একটি অংশ সংস্কারপন্থী নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কাজ করছে তৃতীয় পক্ষ হয়ে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আমান, শোকজ খাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদসহ প্রাক্তন ছাত্র নেতাদের একটি অংশও রয়েছে এ পক্ষে।

বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি বিজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপির দলীয় কোন্দল নতুন বিষয় নয়। দলটি সৃষ্টির পর থেকেই এতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। তবে এবার হয়তো দলটি ভেঙ্গে আবার নতুন করে গড়ে উঠতে পারে। কেননা বেগম জিয়া অসুস্থতা এবং বার্ধক্যজনিত কারণে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। এদিকে তারেক রহমানও পলাতক। তার দেশে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায় দলের হালতো কাউকে না কাউকে ধরতেই হবে। সব মিলিয়ে দলটিতে যোগ্য নেতৃত্ব আসলেই রাজনীতির জন্য মঙ্গল।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়